একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জনপদ গড়ে তোলার প্রধান শর্ত হলো সুশাসন। যখন কোনো অঞ্চলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়, তখন সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। সাতক্ষীরা-৪ শ্যামনগরে আসনে দুইবারের খাদেম ছিলাম আমি গাজী নজরুল ইসলাম। আমি আমার রাজনৈতিক জীবনে সুশাসন প্রতিষ্ঠাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি।

১৯৯১ এবং ২০০১ সালে যখন আমি এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছি, তখন সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে প্রশাসনিক কাঠামোকে জনবান্ধব করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছি। আমার মতে, "জনপ্রতিনিধি মানেই জনগণের সেবক, শাসক নয়।"
খেদমতকালীন সময়ে আমি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য প্রধান তিনটি স্তম্ভকে প্রাধান্য দিয়েছিলাম:
দুর্নীতিমুক্ত জনপ্রশাসন: সরকারি প্রতিটি প্রকল্প এবং বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছিল, যাতে সাধারণ মানুষ তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হয়।
ন্যায়বিচার: স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা এবং গ্রাম্য সালিশে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা ছিল আমার অন্যতম লক্ষ্য।
উন্নয়নের সুষম বণ্টন: উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন সবক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপকূলীয় মানুষের অধিকার ও সুশাসন
সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে বেঁচে থাকা মানুষগুলো প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে। এই দুর্যোগকালীন সময়ে ত্রাণ বিতরণ এবং সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমি, গাজী নজরুল ইসলাম, এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি। লুণ্ঠনমুক্ত ত্রাণ ব্যবস্থা এবং সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে আমি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার যে বীজ বপন করার চেষ্টা করেছি, আমার বিশ্বাস তা আজও স্থানীয় মানুষের স্মৃতিতে অমলিন।
ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে আগামীতে আমার ভাবনা:
আসন্ন নির্বাচনে আমি, গাজী নজরুল ইসলাম, আবারও সাতক্ষীরা-৪ আসনের মানুষের সেবা করার সুযোগ চাইছি। আমার এবারের অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ়:
১. প্রযুক্তি-নির্ভর স্বচ্ছতা: আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
২. যুবসমাজের অংশগ্রহণ: প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে মেধাবী তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া।
৩. দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স': সরকারি অফিসগুলোতে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করা এবং ঘুষমুক্ত সমাজ গঠন করা।
সুশাসন কেবল একটি শব্দ নয়, এটি একটি চর্চা। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে আমি, গাজী নজরুল ইসলাম, সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমি সাতক্ষীরা-৪ আসনকে বাংলাদেশের একটি রোল মডেল আসনে পরিণত করতে চাই; যেখানে প্রতিটি মানুষ বুক ফুলিয়ে তার অধিকার দাবি করতে পারবে এবং প্রশাসন হবে জনগণের প্রকৃত বন্ধু।